এয়ার কন্ডিশনারের ফিচার

এয়ার কন্ডিশনার
বাতাসের পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিবর্তনের জন্য সুনির্দি অপমাত্র, অর্ধতা এবং ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণ যে ডিভাইসের সাহায্যে
করা হয়, তাকে এয়ারকন্ডিশন বলে।
এয়ারকন্ডিশনিং সিস্টেমের প্রকারভেদ: এয়ারকন্ডিশনিং সিস্টেমকে বিভিন্নভাবে বিভক্ত কার যায়-
১। ব্যবহারের উদ্দেশ্যের উপর ভিত্তি করে
(ক)কমফোট (Comfort) বা আরামদায়ক এয়ারকন্ডিশনিং
(খ) ইন্ডাস্ট্রিয়াল এয়ারকন্ডিশনিং
২। ব্যবহারের সময়ের উপর ভিত্তি করে
(ক) সামার (গ্রীস্মকালীন)
(খ) উইন্টার (শীতকালীন)
(গ) অল ইয়ার (সারা বছর ব্যবহার উপযোগী)
৩। এয়ারকন্ডিশন ইউনিট স্থাপনার উপর ভিত্তি করে
(ক) একক (Unitary) এয়ারকন্ডিশনিং।
(খ) উইভে টাইপ (Window type) এসি 
(i) স্পিট টাইপ (Split type) এসি ।
(ii) প্যাকেজ টাইপ (Package type) এসি।
(খ) সেন্ট্রাল (Central) এয়ারকন্ডিশনিং।
(6) ডাইরেক্ট এক্সপানশন (Direct expansion) সিস্টেম এসি।
(i) অল ওয়াটার (All-water) সিস্টেম এসি
(i) অল এয়ার (All-air) সিস্টেম এসি ।
(iv) কম্বাইন্ড (Combined) সিস্টেম এসি
| (v) হিট পাম্প (Heat pump) সিস্টেম এসি।
৪। নিয়ন্ত্রণ কক্ষের উপর ভিত্তি করে দুই প্রকার, যথা
6) সিঙ্গেল জোন (Single zone) এসি
7) (ii) মাল্টিজোন (Multizone) এসি।
8) ২। লোডের চাহিদা পূরণের পদ্ধতিসহ এয়ারকন্ডিশনিং ঃ
9) (ক) বাতাস সরবরাহের পরিমাণ পরিবর্তন করে এয়ারকন্ডিশনিং।
10) (খ) বাইপাস কন্ট্রোল পদ্ধতিসহ এয়ারকন্ডিশনিং
11) (গ) ডুয়েল ডাক্ট কন্ট্রোল পদ্ধতিসহ এয়ারকন্ডিশনিং 
(ঘ) মাল্টি জোন কন্ট্রোল পদ্ধতিসহ এয়ারকন্ডিশনিং
(ঙ) রিহিট কন্ট্রোল পদ্ধতিসহ এয়ারকন্ডিশনিং 

 

এয়ারকন্ডিশনের মূল কার্যনীতি: 
একটি রুম এয়ারকন্ডিশনকে সেলফ-কনটেইনড় ইউনিট হিসেবে জানালায়, ওয়ালের ভিতর অথবা কনসােল হিসেবে
বসানাে বরাবর এয়ারকন্ডিশন বাতাসের সার্কুলেটিং, ক্লিনিং এবং কুলিং করে থাকে। তা ছাড়া, ক্ষেত্রবিশেষে ভেন্টিলেটিং
এবং হিটিং সম্পন্ন করে। সাধারণত এয়ার কন্ডিশনার কম্প্রেসার; কন্ডেনসার, ইভাপোরেটর, মিটারিং ডিভাইস, ফিল্টার,
ফ্যানসহ মােটর। সহযােগে গঠিত। এয়ার কন্ডিশন চালু করলে কম্প্রেসর মোটর চালু হয় এবং সেই সাথে সাথে ফ্যান ও
ব্লোয়ার মােটরও চালু হয়। এ অবস্থা থেকে বাতাস ড্যাম্পার দিয়ে প্রবেশ করে এবং এটি পুনঃপুন পরিভ্রমণরত (Recirculated)
বাতাসের সাথে মিশ্রিত পুনঃপরিভ্রমণরত বাতাস কন্ডিশন্ড স্পেস হতে অর্থাৎ যে রুমকে ঠাণ্ডা করতে হবে, যে স্থান হতে
আসে, কম্প্রেসর মােটর ৫ প্রেসারে গরম বাষ্পীয় হিমায়ক বা রেফ্রিজারেন্ট পদার্থ কন্ডেনসরে যায়। এখানে ফ্যান মােটর
চালু থাকে ফলে গরম বাতা বাতাসে চলে যায়। পরবর্তীতে গরম তরল পদার্থ উচ্চ চাপে এক্সপানশন ভালভে আসে।
এক্সপানশন ভালভ থেকে নিম্নচা তরল ইডাপপারেটর বা কুলিং কয়েলের দিকে আসে। ইভাপােরেটর ব্লোয়ার ফ্যান চালু থাকে।
ফলে ঠাণ্ডা বাতাস কুলি অতিক্রম করে ঘরে প্রবেশ করে। ঠাণ্ডা বাতাস ঘরে প্রবেশ করার সময় বাতাস ফিল্টার দিয়ে
অতিক্রম করে যাতে ময়লা অন্যান্য দ্রব্য দূর হতে পারে। ইভাপোরেটর থেকে পুনরায় রেফ্রিজারেন্ট নিম্নচাপে ও গরম বাষ্পীয়
অবস্থায় প্রেস যেতে থাকে- এ ক্রিয়া পুনঃপুন চলতে থাকে। উইন্ডো টাইপ এয়ার কন্ডিশনার বা কুলার ও ইংরেজি শব্দ
Window এর অর্থ জানালা। আবাসিক বা বাণিজ্যিক অফিস কক্ষে বরাবর স্থাপনকৃত একক বা ইউনিটারি এয়ারকন্ডিশনারের
উইন্ডো টাইপ এয়ার কন্ডিশনার” বলে। সাধারণত এ ধরনের কক্ষের জানালা বরাবর দেয়ালে (wall) বসানো হয় এবং দেখতে
কিছুটা জানালার মতো মনে হয়। তাই এটি উইন্ডে এয়ারকন্ডিশনার নামে পরিচিত। উইন্ডো টাইপ এয়ার কন্ডিশনার বিভিন্ন
অংশগুলোর নাম-
১। সাকশন গ্রিল (Suction grill),
২। রিটার্ন গ্রিল (Return grill),
৩। প্যানেল বোর্ড (Panel board),
৪। ভেন্টিলেটর (Ventilator),
৫। কেসিং /খাঁচা (Casing or cage)। 
উইন্ডো টাইপ এয়ারকন্ডিশনার মূলত এর সাহায্যে বায়ুর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তাই একে এয়ারকুলারও বলা হয়।
তবে এটি পদ্ধতিগতভাবে বায়ুর নিয়ন্ত্রণসহ বাতাস বিদ্ধ করে থাকে। এতে হিময়িক হিসেবে ফ্রেয়ন-22 ব্যবহার করা হয়,
যার সাহায্যে বাতাসের তাপ অ গ্রা হয়। এর তাপ অপসারণ ক্ষমতা 1 টন হতে 3 টন পর্যন্ত হয়। তাই আকারে ছােট হয়ে
থাকে। ফলে আবাসিক গৃহ, বা অফিস কক্ষ, হােটেল কক্ষ, চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, বার, ব্যাংক, আধুনিক সেলুন প্রভৃতি ক্ষেত্রে
অধিক হারে ব্যবহার করা হয়। টি (Split) টাইপ এয়ারকন্ডিশনিং ইউনিট চালু করলে ব্লোয়ার কর্তৃক কক্ষের গরম ও দূষিত
বাতাস কুলিং ইউনিট/প্লেনাম। বেনে প্রবেশ করে। বাতাস প্রবেশের সময় এয়ার ফিল্টার দ্বারা পরিষ্কার ও রােগমুক্ত তথা
বিশুদ্ধ হয় এবং ইভাপােরেটরের কয়েলের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় উক্ত বাতাস আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ ও ঠাণ্ডা হয়। নিয়ন্ত্রিত
বাতাস পুনরায় রিটার্ন গ্রিল বা প্রেমের মাধ্যমে। এয়ারকন্ডিশনিং রুমে প্রবেশ করে কক্ষের তাপমাত্রা কমিয়ে আরামদায়ক
পরিবেশ সৃষ্টি করে থাকে। নিয়ন্ত্রিত ঠাণ্ডা বাতাস কক্ষের তাপ গ্রহণ করে আবার গরম হয়, যা পুনরায় ব্লোয়ার দ্বারা কুলিং
ইউনিটে যায় এবং ইভাপােরেটরের সংস্পর্শে ঠাণ্ডা হয়ে কক্ষে প্রবেশ করে। এ প্রক্রিয়াকে বায়ুপ্রবাহ বলা হয়। মূলত বায়ুপ্রবাহ
এর জন্য নিয়ন্ত্রিত কক্ষে (A.C. Room) সর্বদা আরামদায়ক ও স্বাস্থ্যপ্রদ বিরাজ করে। প্যাকেজ টাইপ এয়ার কন্ডিশনিং
প্যাকেজ শীতাতপ নিয়ন্ত্রক, ঘরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রকের মতোই; এটা কেবল আকারে ও ক্ষমতায়। বড়। এগুলাে ৩, ৫, ৭, ১০
ও ১৫ টন ক্ষমতায় পাওয়া যায়। ঘরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রকের মতাে এতেও বায়ু শশাধনের ঠাণ্ডা করা, আর্দ্রতা কমানো এবং
বাতাসকে নির্দিষ্ট পথে চালনা করার ব্যবস্থা থাকে এবং সব যন্ত্রাংশই উৎপাদকের কারখানায় ঠিকভাবে সাজিয়ে সংযুক্ত করা
থাকে। এর মধ্যে উষ্ণ ও শুষ্ক করার ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। তরলকারক, পানি দ্বারা অথবা বায়ু দ্বারা শীতল করা
হতে পারে। পানি দ্বারা ঠাণ্ডা করার ব্যবস্থা হলে পুরাে মেশিনই ফ্যাক্টরিতে সংযুক্ত হয়ে থাকে। পুরােপুরি ফ্যাক্টরি সংযুক্ত হলে
তা হিমায়ক ভর্তি এবং ঠিকমতাে পরীক্ষা করা অবস্থায় পাওয়া যায়। তার ফলে, কার্যক্ষেত্রে পাইপ বিন্যস্ত করা, চাপ/লিক
পরীক্ষা করা, বায়ুশূন্য করা, হিমায়িক ভরা ইত্যাদি করতে হয় না। এতে মেশিন স্থাপনের। সময় অনেক কমে এবং মেশিনের
বিভিন্ন অংশ ঠিকমতাে সংযুক্ত করা হয়েছে, এ বিষয়ে সুনিশ্চিত হওয়া যায়। এ বায়ু দ্বারা শীতল করার মেশিন ফ্যাক্টরি।
স্ত্র সংযুক্ত হয় না, কেননা বায়ুপ্রবাহের ৪ অভিমুখ অনুসারে তাকে সাজাতে হয়। তাই এ মেশিন বসানোর সময় সামনের
প্যানেল (পাখা-কক্ষ কার্যক্ষেত্রে হিমায়কের প্রবাহ-পাইপ। স্থাপন করা, চাপ পরীক্ষা করা, বায়ুশূন্য করা, হিমায়ক ভর্তি করা
ইত্যাদি সবই কার্যক্ষেত্রে করে নিতে হয়। পানির অভাবে বায়ু দ্বারা শীতল করা মেশিন বেশি পছন্দ করা হয়, যদিও একই
সংকোচক ব্যবহার করা মেশিন বায়ু। সামনের প্যানেল দ্বারা শীতল করা মেশিনের ক্ষমতা কম ও ফেরত বায়ু হয়। বাষ্পকে
কেন্দ্রোপসারী পাখা। তাপচালিত ব্যবহার করা হয়, যা অধিক পরিমাণে। সম্প্রসারণ স্থিতিশীল চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই
বায়ু বিতরণ নল ও ঝিলি ব্যবহার করা। বায়ুশশাধক যায়। প্রবাহিত বায়ুর পরিমাণ। সাধারণত ৩৫০ থেকে ৪০০ কিউবিক
হিমায় ফুট/মিনিট হয়ে থাকে। বিতরণ শশাষণ যে সমস্ত প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানত বোধগম্য তাপ দূর করতে হয়, যেমন
টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, কম্পিউটার রুম ইত্যাদি, সেখানে বেশি পরিমাণে সংকোচন সবায়ু প্রবাহের প্রয়োজন। এ বায়ুপ্রবাহের
পরিমাণ প্রায় ৫০০ থেকে ৫৫০ কিউবিক ফুট/মিনিট, প্রতি টন ক্ষমতার জন্য। তা ছাড়া সূক্ষ্ম বায়ু শোধন ব্যবহার করে
এক্ষেত্রে বায়ুকে অতিমাত্রায় শশাধন করতে হয়। তাই এতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাখা ব্যবহার করা হয়। কোন কোন
টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রের তলা থেকে যন্ত্রের ভেতর দিয়ে বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টি করতে হয়, যাতে
মেশিনের মধ্যে উৎপন্ন তাপ শােষিত হয়ে যায়। সে সব ক্ষেত্রে, মেঝে বরাবর একটি আধার তৈরি করা হয়, যার মধ্যে শীতল
বায়ু প্রবেশ করে। এ আধার থেকে প্রত্যেক মেশিনের নিচে বায়ু সংযোগ স্থাপন করা হয়। এ আধার থেকে অন্য নল পথে
এবং নলের মুখে লি ব্যবহার করে ঘরের মধ্যেও বায়ু বিতরণ করা হয়। ৪৪০ ভােস্ট, থ্রী ফেজ, পরিবর্তী-প্রবাহ বিদ্যুতের
ব্যবহার করার উপযোগী সম্পূর্ণ আবৃত অথবা অর্ধ-আবৃত সঙ্কোচক, প্যাকেজ। ইউনিটে ব্যবহার করা হয়। ১০ বা ১৫ টনের
মতাে বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মেশিনে সঙ্কোচকের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রক ব্যবহার করা হয়। দুটি পৃথক হিমায়ন-ব্যবস্থাযুক্ত মেশিন
প্রচলিত আছে। এতে দুটি পৃথক বাস্পায়ক কুণ্ডলী থাকে। কিন্তু বাম্পায়ক দুটির পাইপগুলাে একসঙ্গে জড়ানাে থাকে অর্থাৎ
একসারির পাইপ একটি বাম্পায়কের সঙ্গে যুক্ত থাকলে তার পরের সারির পাইপগুলাে দ্বিতীয় ও বাম্পায়কের সঙ্গে যুক্ত।
এর ফলে, যখন কম ভারে মেশিন চালাতে হয়, তখন একটি হিমায়ন ব্যবস্থা চালু করে ৫০% ভারে মেশিন চালানো যায়। দুটি
পৃথক পানির দ্বারা শীতল রা তরলকারক ব্যবহার করা হয় অথবা, একটিই তরলকারকের মাঝখানে প্রাচীর (Partition) দিয়ে
৪ দুটি পৃথক কক্ষে ভাগ করা হয়। একই জলের ধারায় দুটি তরলকারককে ঠাণ্ডা করা হয়। বাতাসে ঠাণ্ডা করা তরলকারকের
একটি পাইপের সঙ্গে অপরটির পাইপ পাকিয়ে রাখা হয় অথবা পাইপের কুণ্ডলী সম্পূর্ণ পৃথক থাকে। পূর্বনির্ধারিত সেটিং
অনুসারে সঙ্কোচককে চালনা করার জন্য একটি তাপচালিত সুইচ ব্যবহার করা হয়। সুইচের কার্যকরী ভাল্ভটি বাস্পায়কে
বায়ু প্রবেশের মুখে রাখা থাকে। দুটি হিমায়ন-ব্যবস্থাযুক্ত মেশিনে দু-ধাপের তাপচালিত সুইচ ব্যবহৃত হয়। অবশ্য অধিকাংশ
ক্ষেত্রেই একধাপ একটি তাপ চালিত সুইচ দ্বারা একটি সঙ্কোচের চালনা নিয়ন্ত্রিত করা হয়। অপর সঙ্কোচকটি সর্বদাই চলে।
কিছুকাল পরে, একটি মনুষ্যচালিত পরিবর্তক সুইচ-এর সাহায্যে বৈদ্যুতিক সংযােগ পাল্টে দেয়া হয়, যখন দ্বিতীয় সঙ্কোচকটি
তাপচালিত সুইচ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং প্রথম সঙ্কোচকটি সর্বদাই চলে। এভাবে দুটি সঙ্কোচকেরই চলার কাল সমান রাখা
হয়, যাতে দুটি সঙ্কোচেরই ক্ষয়ের পরিমাণ সমান হয়। এ প্যাকেজ শীতাতপ নিয়ন্ত্রক গুলো ৫ থেকে ১৫ টন ভরের জন্য
আদর্শ। ভর বেশি হলে একাধিক মেশিন ব্যবহার করা যেতে পারে। মেশিনগুলাে পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।
মেশিনগুলােতে যদি পানি দিয়ে ঠাণ্ডা করা তরলকারক ব্যবহার হয়, তবে সরবরাহ ও ফেব্রত বায়ুর দিকে একটিই সাধারণ
ঠাণ্ডা করার টাওয়ার ব্যবহার হয়। তা ছাড়া, মেশিন চলাকালে যখন ভর কম হয়, তখন প্রয়ােজনমতাে এক বা একাধিক
মেশিন বন্ধ করে দেয়া যায়। তখন বাকি মেশিনগুলাে সম্পূর্ণ ভরে কাজ করে। সম্পূর্ণ ভরে কাজ করলেই মেশিনের দক্ষতা
বেশি হয়। তার ফলে শক্তির খরচ কম হয়। ঘরের বিভক্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রকের মতাে প্যাকেজে শীতাতপ নিয়ন্ত্রক ও যদি
বিভক্ত হয়, তবে ঘরের বিডক্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রক বসানাের সময় যা যা সাবধানতা অবলম্বন করা হয়, এক্ষেত্রেও সে সব
সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। বিভিন্ন সম্পন্ন যন্সপাতির নিউজ কাজের জন্য পরিবেশের অবস্থা নিয়ণের প্রয়ােজনীয়তা
দিন দিন বাড়ছে। এ সমস্ত প্রয়ােগের ক্ষেত্রে। প্রধানত বােধগম্য তাপই নিয়ন্ত্রিত করতে হয়। ফলে বেশি পরিমাণে শুদ্ধ
বায়ুপ্রবাহের প্রয়ােজন। অতি অল্প তারতম্যের মধ্যে উষ্ণতা, আপেক্ষিক অর্দ্রিতা বজায় রাখতে হয় এবং অত্যধিক শােধন
দরকার হয়। ফলে একটি মেশিনকে সবসময়ই বিকল্প হিসেবে রাখা উচিৎ। মানুষের আরামদায়ক (Comfortable)
এয়ারকন্ডিশনিং ও মানুষের শরীরের পরিপাক প্রক্রিয়ার জন্য সর্বদাই তাপ উদ্ভূত হচ্ছে। এ তাপের পরিমাণ ব্যক্তি পিছু
প্রায় ১০০ কিলােক্যালরি/ঘণ্টা। এ তাপের সাহায্যেই শরীরের তাপমাত্রা ৯৮.৪° ফারেনহাইটে বজায় রাখা হয়। কিন্তু শরীরের
বাইরের চামড়ার উষ্ণতা ও পারিপার্শ্বিকতার উষ্ণতা আপেক্ষিক আর্দ্রতার উপর নির্ভর করে। শরীরে যে হারে তাপ। উৎপন্ন
হচ্ছে সে হারে তাপ বর্জিত হওয়াও দরকার। পারিপার্শ্বিকতার উষ্ণতা শরীরের উষ্ণতা থেকে কম হলে শরীর থেকে চারপাশের
বায়ুতে তাপ প্রবাহিত হয়। কিন্তু এ উষ্ণতার পার্থক্য যদি খুব বেশি হয় অর্থাৎ পারিপার্শ্বিকতার উষ্ণতা যদি শরীরের উষ্ণতা
থেকে অনেক কম হয়। তখন তাপ প্রবাহের হার বাড়বে এবং যে হারে তাপ উৎপন্ন হয়। তার চেয়ে বেশি হারে তাপ নির্গত
হবে এবং মানুষ। ঠাণ্ডা অনুভব করবে। এজন্য শীতকালে গরম জামা পরে তাপ প্রবাহের হার কমানাে হয়। বিপরীতক্রমে
গ্রীষ্মকালে যখন চারপাশের বায়র উষ্ণতা বেশি হয়, তখন শরীরের তাপ বাইরের বায়ুতে প্রবাহিত হতে পারে না, তখন শরীরে
ঘাম হয়। এ ঘাম বাষ্পীভূত হবার সময় শরীর থেকে সুপ্ত বা লীনতাপ সংগ্রহ করে। এভাবে শরীরের তাপ নির্গত হয়। কিন্তু
বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ যদি খুব বেশি হয়, তখন ঘুমও বাষ্পীভূত হয় না এবং মানুষ অস্বস্তি অনুভব করে। এ অবস্থায়
স্বাভাবিক বায়ুপ্রবাহ হলে অথবা পাখার সাহায্যে কৃত্রিম বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টি করলে ঘামের বাষ্পীভবনের হার বাড়ে এবং কিছুটা
স্বস্তি হয়। কিন্তু আপেক্ষিক আর্দ্রতা খুব বেশি হলে ঘামের বাষ্পীভবন হয় না, ঘামে পােশাক ভিজে যায়, ঘামের গন্ধও নির্গত
হয়, যার ফলে অস্বস্তি বাড়ে। আবার আপেক্ষিক আর্দ্রতা খুব কম হলে ঘাম এত দ্রুত বাস্পীভূত হয় যে চামড়া শুকিয়ে যায়,
ঠোট ফাটে, এমনকি কোমল চামড়া ফেটে রক্ত বের হয়। এ সমস্ত কারণে শরীরের পক্ষে আরামপ্রদ অবস্থা সৃষ্টি করার জন্য
চারপাশের বায়ুর উষ্ণতা, আপেক্ষিক আর্দ্রতা ও প্রবাহ বেগ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়ােজন। এর ফলে শরীর থেকে একটি নির্দিষ্ট ও
স্থির হারে তাপ নির্গত হয় এবং আরাম অনুভূত হয়। ঠিকমতাে তাপমাত্রা ও আপেক্ষিক আর্দ্রতা বজায় রাখা ছাড়াও কিছুটা
বায়ুপ্রবাহ প্রয়ােজন। খুব বেশি বেগে বায়ু প্রবাহিত হলে আবার ঐ অস্বস্তি হবে। নির্দিষ্ট ধীরগতিতে বায়ুপ্রবাহের জন্য একটি
নির্দিষ্ট হারে ঘরের বায়ু বের করে দেয়া হয় এবং সমপরিমাণ নিয়ন্ত্রিত। অবস্থায় বায়ু (Conditioned air) প্রবেশ করানাে হয়।
শরীর থেকে বের হওয়া গন্ধও এ বায়ুপ্রবাহের সঙ্গে ঘর থেকে বের করে দেয়া হয়। বায়ুতে উপস্থিত অপদ্রব্য দূর করা স্বাস্থ্যের
জন্য প্রয়োজনীয়। শরীর থেকে একটি নির্দিষ্ট হারে তাপ নির্গত হওয়ার জন্য বায়ুর উষ্ণতা, আপেক্ষিক আর্দ্রতা এবং প্রবাহ
বেগ—তিনটিই একসঙ্গে ক্রিয়া। করে। এ তিনটির বিভিন্ন সমবায় (Combination) একই প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। যেমন,
উষ্ণতা একটু বাড়লে এবং আপেক্ষিক অর্পিতা একটু কমলে, তাপ নির্গত হওয়ার হার সমান থাকতে পারে। আবার, বিভিন্ন
লােকের আরাম অনুভব করার অবস্থা বিভিন্ন হতে পারে এবং সে লােক কী ধরনের কাজ করছে, তার উপরও নির্ভর করে।
যেমন, কারখানায় কঠোর পরিশ্রম করার সময় লােক এক রকম পরিবেশে আরাম অনুভব করবে এবং সভাকক্ষে দর্শকে
আসনে বসে থাকা লোকের আরাম অনুভবের পরিবেশ বিভিন্ন হবে। সাধারণভাবে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে ২৩.৫° থেকে
২৫.৫° সেন্টিগ্রেড (৭৪° থেকে ৭৮° ফারেনহাইট) পর্যন্ত তাপমাত্রা, ৫৫ থেকে ৬৫ শতাংশ আপেক্ষিক আর্দ্রতা এবং ১৫
থেকে ৪০ ফুট/মিনিট বায়ুর গতি বজায় রাখা হয়।  একহ বা পুনঃপ্রবাহিত করার সঙ্গে সঙ্গে কিছু পরিমাণ বাইরের বায় প্রবেশ
করানাে এবং সমপরিমাণ ভেতরের বায়ু বাইরে বের। করার প্রয়ােজন আছে। বায়ুতে কার্বন ডাইঅক্সাইডের শতকরা পরিমাণ
যাতে না বাড়ে, তার জন্যই এটি প্রয়োজন। এর দ্বারা। বাতাসের গন্ধ বের করে দেয়া হয়। বিভিন্ন প্রয়োগের জন্য বিভিন্ন
মাত্রার উষ্ণতা, আপেক্ষিক আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ এবং শুদ্ধতা (Cleanliness) প্রয়ােজন। এজন্য বিভিন্ন । ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদ্ধতি
অবলম্বন করা হয়। শীতকালে যখন বাইরের বায়ুর তাপমাত্রা খুবই কম এবং বায়ু খুবই শুষ্ক, তখন আরামপ্রদ। অবস্থা সৃষ্টির
জন্য বায়ুকে উত্তপ্ত করা হয় এবং জলীয় বাষ্প প্রয়ােগ করা হয়। কেন্দ্রীয় (Central) এয়ারকন্ডিশনিং ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ
মেশিনের বিভিন্ন অংশ যেমন— সঙ্কোচক ও তার চালক মােটর, তরলকারক, ম’বায়ু-পরিচালন ব্যবস্থা, বাস্পায়ক, সম্প্রসারক
এবং বিভিন্ন স্থানের হিমায়ক পাইপ সযত্নে নির্বাচন ও সংস্থাপন করতে হয়। মেশিনের প্রত্যেকটি অংশের ক্ষমতা, পুরাে
মেশিনের ক্ষমতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া দরকার। তাই প্রত্যেকটি অংশের নির্বাচন সঠিক হওয়া আবশ্যক। বায়ু খুবই শুষ্ক,
তখন আরামপ্রদ। অবস্থা সৃষ্টির জন্য বায়ুকে উত্তপ্ত করা হয় এবং জলীয় বাষ্প প্রয়ােগ করা হয়। কেন্দ্রীয় (Central)
এয়ারকন্ডিশনিং ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ মেশিনের বিভিন্ন অংশ যেমন— সঙ্কোচক ও তার চালক মােটর, তরলকারক,
ম’বায়ু-পরিচালন ব্যবস্থা, বাস্পায়ক, সম্প্রসারক এবং বিভিন্ন স্থানের হিমায়ক পাইপ সযত্নে নির্বাচন ও সংস্থাপন করতে হয়।
মেশিনের প্রত্যেকটি অংশের ক্ষমতা, পুরাে মেশিনের ক্ষমতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া দরকার। তাই প্রত্যেকটি অংশের
নির্বাচন সঠিক হওয়া আবশ্যক।

You may also like...

Leave a Reply