ক্রস আর্ম, গার্ড ও ডাম্পার

ক্রস আর্ম
ওভারহেড লাহনে সাধারণত খােলা তারই কন্ডাক্টর হিসাবে ব্যবহার করা হয়। লহিলেম এই ফামকে। ইনসুলেটরের সাথে
আটকানাে হয়। আবার একই পােলের সাথে একাধিক কন্ডাক্টর ব্যবহার করা হয়। এই সকল। কন্ডাক্টরকে পরস্পর থেকে
নির্দিষ্ট দূরত্বে রাখা প্রয়োজন। নতুবা দুই লাইনের মাঝে শর্ট সার্কিট হতে পারে।  কন্ডাক্টরসমূহকে ভূমি হতে নিরাপদ উচ্চতায়
রাখতে হবে। তাই ওভারহেড লাইনের ইনসুলেটর ও কন্ডাক্টরসমূহকে পরপর হতে নিরাপদ দূরত্বে রাখা এবং ভূমি হতে
কন্ডাক্টরকে নিরাপদ উচ্চতায় রাখার জন্য ক্রস-আর্ম ব্যবহার করা হয়। ক্রস-আর্ম সাধারণত কাঠ বা ইস্পাতের তৈরি হয়ে
থাকে। ইস্পাতের ক্রস-আর্ম তেরি করার জন্য এমএস চ্যানেল অথবা অ্যাঙ্গেল ব্যবহার করা হয়। চ্যানেল দ্বারা তৈরি
ক্রস-আর্মকে চ্যানেল ক্রস-আর্ম এবং অ্যাঙ্গেল দ্বারা তৈরি ক্রস-আর্মকে অ্যাঙ্গেল ক্রস-আর্ম বলা হয়। 
ক্রস-আর্ম স্থাপনের পদ্ধতি:
সাধারণত দুই ধরনের ক্রস-আর্মের ব্যবহার দেখা যায়। কাঠের ক্রস-আম ও ইস্পাতের ক্রস-আর্ম। কাঠের ক্রস আর্ম
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেগুন অথবা শিশু কাঠ দ্বারা তৈরি করা হয়। ইস্পাতের ক্রস-আম তাের করার জন্য এমএস চ্যানেল
অথবা অ্যাঙ্গোল ব্যবহার করা হয়।
কভার বিন্যাসের প্রয়ােজন অনুযায়ী ক্রস-আর্মের আকার বিভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন –
(ক) সরল ক্রস-আর্ম ; 
(খ) ত্রিকোণাকার ক্রস-আর্ম ;
(গ) ভি (V) আকারের ক্রস-আর্ম; 
(ঘ) সর্পিলাকার বা জিগজাগ ক্রস-আর্ম।
পোলাই ক্রস-আর্ম স্থাপন করার জন্য প্রয়োজনীয় মালামালের তালিকা।
১. ইস্পাতের নাট-বোল্ট;
২. ক্রস-আর্
৩. ব্রেস লাগানোর সকেট;
৪. ব্রেস
৫. U (ইউ) বোল্ট ও নাট। 
ক্রস-আর্মের আকার নির্ধারণ ও স্থাপনের উপর লাইনের কর্মদক্ষতা অনেকাংশে নির্ভরশীল। তাই ক্রসআর্ম স্থাপনের ক্ষেত্রে
কিছু প্রয়োজনীয় শর্ত মেনে চলা দরকার। 
১. ক্রস-আর্মের ধরন এমন হতে হবে যাতে সুষ্ঠু কন্ডাক্টর বিন্যাস নিশ্চিত হয়।
২. লাইনের কন্ডাক্টর গুলোর ব্যবধান সঠিক হতে হবে।
৩. ক্রস-আর্ম পােলের নির্দিষ্ট উচ্চতায় স্থাপন করতে হবে যাতে কন্ডাক্টরসমূহ ভূমি হতে নিরাপদ উচ্চতায় থাকে।
৪. লাইনের দিক অনুযায়ী ক্রস-আর্মের দিক সঠিক হতে হবে। ট্যানজেন্ট পােলে ক্রস-আর্ম পোলের উপর
লম্বভাবে থাকবে এবং কৌণিক পােলে এর দিক এমন হতে হবে যাতে তার উভয় পাশেই টান প্রায় সমান হয়। 
উপরােক্ত শর্তসমূহ পূরণ সাপেক্ষে নাট-বােল্ট ও ক্ল্যাম্পের সাহায্যে ক্রস-আর্ম ভালােভাবে স্থাপন করতে হয়। 
গার্ডওভারহেড লাইনের কন্ডাক্টর হঠাৎ কোন কারণে ছিড়ে গিয়ে রাস্তাঘাট, টেলিফোন বা টেলিগ্রাফ লাইন, লােকজন বা
অন্য কোনো জীবজন্তুর উপর পড়লে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। আবার ওভারহেড লাইনের কন্ডাক্টরে পাখি বসে।
অনেক সময় কন্ডাক্টর ও ক্রস-আর্মের মধ্যে শর্ট সার্কিট ঘটায়। এইসব দুর্ঘটনা এড়ানাের জন্য ওভারহেড লাইনের
বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তামূলক যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, তাই গার্ড। ওভারহেড লাইনে বিভিন্ন প্রকার গার্ড।
ব্যবহার করা হয়। যেমন –
(১) ক্রাডল গার্ড : পােল বিশিষ্ট H.T ওভারহেড লাইন রেলপথ ও টেলিফোন লাইন অতিক্রম করলে এই গার্ড
ব্যবহার করা হয়।
(২) স্কাই গার্ড : টাওয়ার বিশিষ্ট HT ওভারহেড লাইন রেলপথ বা টেলিফোন লাইন অতিক্রম করলে। ওভারহেড লাইনের
কন্ডাকটরের নিচে এবং টেলিফোন লাইনের উপরে এই গার্ড ব্যবহার করা হয়। 
(৩) বার্ড গার্ড : HT ওভারহেড লাইনে পিন ইনসুলেটরের উপরে এই গার্ড বসানাে হয়। ফলে পারে না। 
(৪) কেজ গার্ড : LT সার্ভিস লাইনে বা সার্ভিস লাইনের পােলের কাছাকাছি এই গার্ড ব্যবহার করা হয়। 
ড্যাম্পার
ওভারহেড লাইনের কন্ডাক্টরের উপর দিয়ে বাতাস প্রবাহের ফলে কন্ডাক্টরে কম্পনের সৃষ্টি হয়। এই কম্পনের । ফলে পােল
বা টাওয়ারের নিকটে কন্ডাক্টর ছিড়ে যেতে পারে। তাই কম্পন প্রশমনের জন্য যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা । হয় তাই ডাম্পার।
ড্যাম্পার হিসাবে সাধারণত ভারী ধাতুর পদার্থ ব্যবহার করা হয়। 
ড্যাম্পার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা:
ওভারহেড লাইনের কন্ডাক্টরের উপর দিয়ে বাতাস প্রবাহের কারণে কন্ডাক্টরে কম্পনের সৃষ্টি হয়। এই কম্পন্ন। কন্ডাক্টরে
উল্লম্ব ঢেউয়ের সৃষ্টি করে এবং স্প্যানের এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। এই কম্পনের ফলে ইনসুলেটর
বাঁধনের কাছে কন্ডাক্টর ক্রমাগত উঠানামা করার ফলে কন্ডাক্টর চাপ পড়ে। ফলে কন্ডাক্টর ছিড়ে যেতে পারে। এই
কম্পনজনিত ক্ষতির হাত থেকে কন্ডাক্টরকে রক্ষার জন্য ড্যাম্পার ব্যবহার করা প্রয়োজন। কন্ডাক্টর এর বাঁধন হতে আয়
দূরে উভয় পার্শ্বে ভ্যাম্পার লাগানো হয়। ড্যাম্পার বাতাসের সৃষ্ট কম্পনকে প্রশমিত করে। উচ্চ চাপের দীর্ঘ স্প্যানের লাইনে
স্টব্রিজ ড্যাম্পারই বেশি ব্যবহৃত হয়। অনেক ক্ষেত্রে দামের বিবেচনায় স্টকব্রিজ ড্যাম্পারের পরিবর্তে বেট ড্যাম্পারও
ব্যবহার করা হয়।

You may also like...

Leave a Reply