লিড লিড এসিড সেল

লিড লিড এসিড সেল
সেলের জগতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত হয় লিড লিড অ্যাসিড সেল। এ সেল দিয়ে তৈরি ব্যাটারির উৎপাদন
অন্যান্য সেকেন্ডারি সেলের তুলনায় কম। যেখানে বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের প্রয়ােজন হয় সেখানেই এটি ব্যবহৃত হয়ে।
এ অধ্যায়ে লিড অ্যাসিড সেলের গঠন, ব্যবহার, চার্জিং-এর নিয়ম, রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি নিয়ে আলােচ
হয়েছে। 
সঞ্চয়ী বা সেকেন্ডারি সেলের সংজ্ঞা : সেলের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বিদ্যুৎ শক্তি উৎপন্ন হয়। যে সন
একবার কাজে ব্যবহার করার পর এর সঞ্চিত শক্তি শেষ হয়ে গেলে আবার চার্জ দ্বারা কাজের উপযােগী ক
সেই সকল সেলকে সেকেন্ডারি সেল বলে। এ জাতীয় সেলকে সঞ্চয়ী সেলও বলা হয়। সেকেন্ডারি
শক্তি রাসায়নিক শক্তিরূপে জমা থাকে, তাই একে স্টোরেজ সেল বলা হয়। মােটরযানের প্রাথমিক বিদ্যু
উৎস হল স্টোরেজ ব্যাটারি বা সেকেন্ডারি ব্যাটারি, যা সেকেন্ডারি সেলের সমন্বয়ে গঠিত।।
লিড লিড অ্যাসিড সেলের গঠন এবং কার্যপ্রণালি : নিচে লিড লিড অ্যাসিড সেলের গঠন বর্ণনা করা হল –
গঠন : সেলের প্রধানত চার প্রকার হয়ে থাকে। যথা- 
১. পিজটিভ ইলেকট্রোড বা ধণাত্মক পাত বা অ্যানােড : বাদামি রঙের লেড পার-অক্সাইড পাত।
২. নেগেটিভ ইলেকট্রোড বা ঋণাত্মক পাত বা ক্যাথোড : সচ্ছিদ্র ধূসর স্পঞ্জ লিড।
৩. ইলেকট্রোলাইট : পাতলা সালফিউরিক অ্যাসিড এবং
৪, সেলের কেস বা পাত্র। নিচে লিড অ্যাসিড সেলের বিভিন্ন অংশের গঠন ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হল।।
১. বাহঃআবরণ : এ সেলের বহিঃআবরণ ব্যাকেলাইট, কঠিন রবার অথবা কাচের তৈরি হয়ে থাকে। এটি
ব্যাটারির সব উপাদান ধারণ করে বলে একে ধারক বলে। ধারকে সেলের জন্য গ্রুপিং করা থাকে। ব্যাটারির
ভােল্টেজ ক্যাপাসিটি সেল সংখ্যার উপর নির্ভর করে। প্রতিটি সেলের ভােল্টেজ ক্যাপাসিটি ২ ভােল্ট হয়।
অর্থাৎ ১২ ভােন্ট ব্যাটারির জন্য ৬ টি সেল থাকে।
২. ইলেকট্রোডস্ বা প্লেটস : ইলেকট্রোডসমূহ এণ্টিন্টমােনি লিড অ্যালয়ের শক্ত কাঠামোে দ্বারা গঠিত, যাতে ।
একটিভ বা ক্রিয়াশীল পদার্থের চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে লাগানো হয়। অ্যাকটিভ বা ক্রিয়াশীল পদার্থের প্রধান ।
উপাদান হল লেড-অক্সাইড। এ প্রক্রিয়ায় পজেটিভ প্লেট লেড পার-অক্সাইডে রূপান্তরিত হয় এবং গাঢ়
বাদামি রং ধারণ করে। নেগেটিভ প্লেটটি ছিদ্রযুক্ত ধূসর বর্ণের লিডে রূপান্তরিত হয়। প্রতিটি সেলে পজিটিভ
প্লেটের চেয়ে নেগেটিভ প্লেট একটি বেশি থাকে এবং বহির্ভাগের দুটি প্লেটই নেগেটিভ প্লেট।
৩. নেগেটিভ প্লেটে: নেগেটিভ প্লেটের মাঝে একটি পজিটিভ প্রেট থাকে। সেলে প্রেটের সংখ্যা যত বেশি হবে ব্যাটারির
ক্ষমতা তত বেশি হবে।
৪. ইলেকট্রোলাইট : এ সেলে ব্যবহৃত ইলেকট্রোলাইট হল পাতলা সালফিউরিক অ্যাসিড দ্রবণ। এর আপেক্ষিক।
গুরুত্ব ১.১২ থেকে ১.২৪ পর্যন্ত হয়।
৫. উপাদান : এ সেলের ধারণক্ষমতা প্লেটের ক্ষেত্রফলের উপর বা আয়তনের উপর নির্ভর করে। প্লেটের ক্ষেত্রফল বৃদ্ধির
জন্য প্লেটগুলাে আকার আকৃতিতে বৃহৎ করার পরিবর্তে এক গ্রুপ পজিটিভ এবং একথুপ নেগেটিভ প্লেট ব্যবহার করা হয়
এবং সেগুলো অভ্যন্তরীণভাবে সংযোগ করে গ্রুপ ভিত্তিক একত্র করা থাকে। অতঃপর এ দুটি দলকে একত্রে কোষের
আবদ্ধ করা হয়, যাকে উপাদান বলে।
১। -ve প্লেট, ২। সেপারেটর, ৩। +ve প্লেট, ৪। +ve প্লেট গ্রুপ, ৫। -ve প্লেট অ”
লগ, ৮। প্লেট গ্রুপ, ৯। গার্ড স্ক্রীন, ১০। গার্ড পে-ট, ১১। সেল কভার, ১২। প্লাগ ওয়াশার, ১৩। ভেন্ট প্লাগ,
১৪। অভ্যন্তরীণ সেল কানেকটর, ১৫। টার্মিনাল লগ, ১৬। ক্রু।
৬. সেপারেটর : বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে যেন না ঘটে সে লক্ষ্যে ইনসুলেশন উপাদানের তৈরি পাত প্রতিটি নেগেটিভ
এবং পজিটিভ প্লেটের মাঝখানে ব্যবহৃত হয় যাকে সেপারেটর বলে। এ সেপারেটরগুলাে বিশেষভাবে সরু খাজকাটা।
ছিদ্রযুক্ত কাঠের, রবারের বা কাচের তৈরি হয়ে থাকে। প্রাকৃতিক কাঠকে গরম ক্ষারীয় দ্রবণে ডুবানাে হয়, যাতে
কাঠের ভিতরকার অ্যাসিটিক অ্যাসিড এবং অন্যান্য উপাদান দূরীভূত হয়। সেপারেটরগুলােকে সব সময় আদ্র রাখা
হয়। কোনাে কোনাে ক্ষেত্রে পাতলা সছিদ্র কঠিন রবারের শিট কাঠের সেপারেটরের সাথে ব্যবহৃত হয়। কখনও
কখনও কাচ ও পাট সেপারেটর হিসেবে ব্যবহূত হয়। উপরে চিত্র ৬.২ এ সেপারেটর দেখানাে হয়েছে।
৭. ভেন্টস : প্রতিটি সেলের বহিঃআবরণের একটি করে ছিদ্র বা ভেন্ট থাকে। যার ভেতর দিয়ে ইলেট্রোলাইটের বা।
দ্রবণের নিয়মিত পরীক্ষা চলে এবং প্রয়ােজনের সময় দ্রবণে পানি দেয়া হয়। সেল যখন কাজ করে, তখন ভেন্ট প্লাগ।
দ্বারা বন্ধ করা থাকে, যাতে দ্রবণ বাইরে না আসতে পারে। ভেন্ট প্রাগের উপরিভাগে একটি সরু ছিদ্র থাকে যাতে
চার্জিং-এর সময় গ্যাস নির্গত হতে পারে। চার্জের সময় এটি অবশ্যই খুলে রাখতে হয়।
হস্টারনাল বা কানেক্টর : সেল পজিটিভ প্রেটসমূহ একত্রে এবং নেগেটিভ প্লেট সমূহ একত্রে স
সংযুক্ত থাকে। এটিই ইন্টারনাল কানেকটর, যা ঢালাই করে তৈরি করা হয়।
এক্সটারনাল কানেকটর : কতকগুলাে সেল দিয়ে ব্যাটারি তৈরির ক্ষেত্রে সেলগুলাের মধ্যে বাই অনুযায়ী সংযােগের জন্য
সীসার যে পাত দিয়ে সংযুক্ত হয় তাই এক্সটারনাল কানেকটর।
লিড সিড অ্যাসিড সেলের ব্যবহার : ওঁমানে লিড লিড আসিড সেল ব্যাটারি) বিভিন্ন কাজে ব্যাপকভাবে।
ব্যবহার করা হচ্ছে। নি এর ব্যবহারের তালিকা দেয়া হল-
১. মোটর গাড়ি বাস, ট্রাক, পি, কার, মাইক্রোবাস) চালু করার কাজে। যানবাহনে ব্যবহূত স্টোরে। ব্যাটারি অটোমেটিক
নারি বা মোটরযান ইলেকট্রিক সিস্টেমের হৃদপিণ্ড বলা হয়।
২. আইপিএস এর সাথে ।
৩. রেডিও, টেলিফোন একচেঞ্জ ইতি ক্ষেত্রে।
৪. ইদানীংকালে মোটরসাইকেল, ফ্রি দুইলার চালাতে।
৫. রেলওয়ে সিগন্যাল সিস্টেম।
৬. বৈদ্যুতিক পাওয়ার উৎপাদনের ক্ষেত্রে এবং এর কন্ট্রোল সিস্টেমে। |
লিড লিড অ্যাসিড সেল চার্জ করার ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক পদক্ষেপসমূহ : লিড লিড অ্যাসিড সেল (ব্যাটারি) ।
সতর্কতার সাথে সঠিক পধতিতে চার্জ প্রলে ব্যাটারির সেশসমূহ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। নিচে
চার্জিং এর একটি চিত্র দেখানাে হয়েছে। চার্জের সময়ে সতর্ক পদক্ষেপসমূহ নিম্নরূপ-
১. ডিসি সাপ্লাই দিয়ে চার্জ করতে হবে। চার্জিং ভােন্টেজ ব্যাটারির ভােল্টেজের চেয়ে বেশি হতে হবে।
২. সঠিক পােলারিটিতে সংযােগ করতে হবে অর্থাৎ ব্যাটারির পজিটিভ সাপ্লাইয়ের পজিটিভ এবং ব্যাটারির নেগেটিভ
সাপ্লাইয়ের নেগেটিভ-এর সাথে লাগতে হবে।
৩. অল্প কারেন্ট প্রবাহে বেশি সময় ধরে চার্জ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তৈরিকারকের নির্দেশ মত ব্যাটারি চার্জ।
করা উচিত। 
৪. চার্জের সময় ভেন্ট প্লগ খুলে রাখতে হবে, যাতে বুদবুদ বা গ্যাস বের হতে পারে।
৫. সেলের অ্যাসিড লেভেল কমলে বিশুদ্ধ বা পাতিত (Distilled) পানি দিয়ে লেভেল সঠিক করে চার্জ করতে হবে।
এক্ষেত্রে অ্যাসিড লেভেল প্লেটের ১৫ মি. মি. উপরে থাকা প্রয়ােজন।
৬. চার্জের সময় হাইড্রোমিটার দিয়ে সেলের অ্যাসিডের আপেক্ষিক গুরুত্ব মাপতে হবে। ব্যাটারির পূর্ণ চাজিং এ ।
প্রতিটি সেলের আপেক্ষিক গুরুত্ব হবে ১.৩১।
৭. ব্যাটারি চার্জের সময় হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাস বের হয় বলে কাছে আগুন নেয়া যাবে না।
৮. শরীর বা জামা কাপড়ে যেন অ্যাসিড না লাগে এবং দুর্ঘটনায় নিরাপত্তার জন্য কাছেই পর্যাপ্ত পানি রাখা দরকার।

 

লিড লিড অ্যাসিড রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সমূহ : সঞ্চয়ী ব্যাটারি নির্দিষ্ট কার্যকালের পর ।
পাঠকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে, ব্যাটারি দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্ষম থাকে। ব্যাটারি দীর্ঘমেয়াদি ত্রুটিমুক্তভাবে কাজ ।
ম সননয়ামতভাবে পরিচর্যা করাকে ব্যাটারির রক্ষণাবেক্ষণ বলে। একে ব্যাটারি সার্ভিসিংও বলে। লিড লিড।
অ্যাসিড ব্যাটারির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যাটারির কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে এবং ব্যাটারিকে দীর্ঘস্থায়ী করে। এর সঠিক
রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সমূহ হল –
১. চার্জের সময়ে প্রয়ােজনীয় সতর্কতা মেনে চলতে হবে বা চার্জ করতে হবে। সঠিক পােলারিটি, সঠিক
ভেজে ও কম কারেন্ট এ চার্জ করতে হবে। স্লো চার্জিং ব্যাটারিকে দীর্ঘস্থায়ী করে।
২. ডিসচার্জ অবস্থায় ব্যাটারি ফেলে রাখা যাবে না এবং কম চার্জে ব্যাটারি ব্যবহার করা যাবে না অর্থাৎ প্রতিটি
সেলের ভােল্টেজ ১.৮ ভােল্টের নিচে সেল ব্যবহার করা ঠিক নয়। এ অবস্থায় ব্যাটারি চার্জ করতে হবে।
৩. ব্যাটারি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আর্দ্র ও সঁাতাতে জায়গায় ব্যাটারি রাখা যাবে না।
৪. ব্যাটারি ব্যবহারকালে সঠিকভাবে টার্মিনালে সংযােগ দিতে হবে যাতে ঢিলা না থাকে, অর্থাৎ পার্কিং না হয়।
৫. ব্যাটারির সেলসমূহে অ্যাসিড লেভেল কমলে বিশুদ্ধ বা পাতিত (Distilled) পানি দিতে হবে, যাতে, প্লেটসমূহ ১৫ মি. মি.
অ্যাসিডে ডুবে থাকে।
৬. ডিসচার্জ রেট বা লোড অ্যাম্পিয়ার বেশি হওয়া চলবে না।
৭. চার্জের সময় হাইড্রোমিটার দিয়ে প্রতিটি সেলের অ্যাসিডের আপেক্ষিক গুরুত্ব মাপতে হবে।
৮. ব্যাটারি প্রতিনিয়ত ওভার চার্জ করা যাবে না।
৯. ব্যাটারি ডিসচার্জ হওয়ার আগেই সঠিকভাবে চার্জ করলে ব্যাটারির কর্মক্ষমতা বাড়ে।
১০. ব্যাটারি উপর কোনাে ধাতব পদার্থ পড়লে ব্যাটারি শর্ট হতে পারে। সেজন্য সাবধান।
১১. ব্যাটারি রৌদ্রে রাখা যাবে না। 

 

নিকেল-ক্যাডমিয়াম সেল এর সুবিধা : নিকেল-ক্যাডমিয়াম সেল সহজে বহনযোগ্য ও মােবাইল ইলেকট্রনিক
সামগ্রীতে বহুল ব্যবহৃত এক ধরনের সেকেন্ডারি সেল। অনেকগুলো সুবিধার জন্য বর্তমানে নিকেল ক্যাডমিয়াম সেল।
ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ সেলের ব্যবহারে যে সুবিধাগুলাে পাওয়া যায় তা হল –
১. এত সেলের ই এম এফ ১.২ ভােল্ট হয় বলে কম ভােন্টেজের ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীতে ব্যবহার করা যায়।।
২. সেলগুলাে ডিসচার্জ অবস্থায় পড়ে থাকলেও ক্ষতি হয় না।
৩. একই ক্যাপাসিটির লিড লিড অ্যাসিড ব্যাটারির তুলনায় নিকেল-ক্যাডমিয়াম ব্যাটারির ওজন কম ও মজবুত।
৪. এর রক্ষণাবেক্ষণ সহজ ও মেরামত খরচ কম।।
৫. পূর্ণ ডিসচার্জ না হওয়া পর্যন্ত ইএমএফ একই থাকে।
৬. এটি ওভার চার্জিং, ওভার ডিসচার্জিং অথবা আদর্শ যন্ত্রপাতিতে দীর্ঘসময় ব্যবহার করা যায়। 

You may also like...

Leave a Reply