টেবিল ফ্যানের কার্যপ্রণালী

টেবিল ফ্যান
টেবল স্যান ও পেস্টেল ফ্যান সর্বত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। জনপ্রিয়তার শীর্ষে এর স্থান। বর্তমানে বাজারে ব্যাটারি
চালিতরাজোন পাওয়া যায় যা বিদ্যুৎ চলে গেলেও এক নাগাড়ে কয়েক ঘণ্টা সার্ভিস দিতে পারে। অসিলেটিং মেকানিজম
থাকার। করলে পালকওয়াইজ ও অ্যান্টিক ওয়াইজ ঘুরে বাতাস দিয়ে থাকে। আমাদের দেশে টেবিল ফ্যান তৈরি হয় না,
তবে সাধারণত। ভারত, পাকিস্তান ও চান হতে প্রচুর পরিমাণে টেবিল ও পেডেস্টাল ফ্যান আমদানি করা হয়। আমদানিকৃত
ফ্যান কমপ্লিট ও বিযুক্ত অবস্থায় থাকে যা পরবর্তীতে ফিটিং করে বিক্রি করা হয়। টেবিল ও পেডেন্টালের ফ্যানের সুইপ
৪”, 12, 16” ও 24” ইত্যাদি, সাইজের হয়ে থাকে। .
টেবিল ফ্যানের প্রকারভেদ ৪ টেবিল ফ্যান দু ধরনের হয় ?
(ক) পারমানেন্ট ক্যাপাসিটর টাইপ টেবিল ফ্যান,
(খ) শেডেড পোল টাইপ টেবিল ফ্যান।
(ক) পারমানেন্ট ক্যাপাসিটর টাইপ টেবিল ফ্যান (Permanent Capacitor type table fan) । বেশি ওয়াট ক্ষমতা ও অধিক
পরিমাণে বাতাস সরবরাহের ক্ষেত্রে এ ধরনের টেবিল ফ্যান ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের মােটরে দু’ধরনের ওয়াইন্ডিং ব্যবহার
করা হয়: (১) স্টাটিং ওয়াইন্ডিং ও (২) রানিং ওয়াইন্ডিং। উভয় ধরনের ওয়াইন্ডিয়ে তারের সাইজ একই রাখা হয় অথবা কোন
কোন ক্ষেত্রে স্টার্টিং ওয়াইন্ডিংয়ের তারের সাইজ কিছুটা চিকন রাখা হয়। অধিকাংশ টেবিল ফ্যান ৪ পােলের হয়ে থাকে এবং
বেশিরভাগ । টেবিল ফ্যানের ক্যাপাসিটর টাইপ হয়। এ ধরনের ফ্যানে স্কুইরেল কেজ টাইপ রােটর ব্যবহার করা হয়।

 

শেডেড পোল টাইপ টেবিল ফ্যান: কম ওয়াট ক্ষমতা ও অল্প পরিমাণে বাতাস সরবরাহের ক্ষেত্রে এ ধরনের টেবিল ফ্যান
ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের মােটরে এক। ধরনের ওয়াইন্ডিং থাকে যাকে মেইন ওয়াইন্ডিং বা এক্সাইটিং কয়েল বলে। খুবই
সাধারণ গঠনের এই ফ্যানটিতে স্কুইরেল কেজ টাইপ। রােটর ব্যবহার করা হয় এবং স্টেটর উভয় পােলের অগ্রভাগে একটি
বা দুটি করে কপার রিং (শেডেড রিং) থাকে। কপার রিংগুলি প্রতি পালের ১/৩ অংশে খাঁজ কেটে বসানো হয় এবং এরাই
আংশিক ঘুরন্ত চুম্বকক্ষেত্র তৈরি করে ও রােটরকে ঘূর্ণন টর্ক প্রদান করে।
টেবিল ফ্যান/পেডেস্টাল ফ্যানের কার্যাবলি: টেবিল এবং পেডেস্টাল ফ্যান উভয়েই সিঙ্গেল ফেজ ইন্ডাকশন মোটরের
রোটেটিং স্কুইরেল কেজ টাইপ। হয় এবং ক্যাপাসিটর স্থায়ীভাবে স্টার্টিং ওয়াইন্ডিং এর সাথে সিরিজে সংযুক্ত থাকে। সিঙ্গেল
ফেজ ইন্ডাকশন। মােটরের সবচেয়ে বড় দোষ এই যে, এটি নিজে নিজে স্টার্ট নিতে পারে না অর্থাৎ এর কোন স্টাটিং টর্ক
নেই। তাই সেলফ স্টার্ট করার জন্য মেইন বই রানিং ওয়াইন্ডিং এর সাথে আরেকটি অতিরিক্ত স্টাটিং ওয়াইন্ডিং পরস্পরের
সাথে 90° ইলেকট্রিক্যাল স্পেসে প্যারালালে সংযোগ থাকে। এরূপ ব্যবস্থায় মটর ৩ ফেজ মােটরের ন্যায় আচরণ ও, সিঙ্গেল
ফেজ সাপ্লাইয়ে রিভলভিং ফ্লাক্স সৃষ্টির মাধ্যমে ‘সেলফ স্টাটিং হয়। শেডেড পােল টাইপ টেবিল ফ্যানে প্রতিটি পােলের ১/৩
অংশ দূরত্বে আড়াআড়ি একটি প্লেট (Slot) বা খাজকাটা থাকে। এই টে। একটি বা দুটি তামার মােটা আংটি (Ring), পরে
দেওয়া হয়। এই আংটির নাম হল শেডিং কয়েল। যখন এক্সাইটিং কয়েলে সিঙ্গেল ফেজ সাপ্লাই দেয়া হয়, তখন পােলে সৃষ্ট
ম্যাগনেটিক ফ্যাক্স আনশেডেড অংশ হতে শেডেড অংশে সরে আসে। এক্সাইটিং কয়েলের তার একটি ফর্মার উপর পেঁচানাে
থাকে এবং এই ফর্মাসহ কয়েল কোরের এক বাহুতে প্রবেশ করিয়ে দিতে হয়। শেডিং কয়েলে, ট্রান্সফরমারের ন্যায় সেকেন্ডারি
ভােল্টেজ উৎপন্ন হয় এবং পেলে সৃষ্ট এম.এম.এফ আনশেডেড অংশ থেকে শেডেড অংশে চলে আসে। কাজেই একটি
অর্ধসাইকেল বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় যে শেডেড পােলও প্রায় একটি আংশিক ঘুরন্ত চুম্বকক্ষেত্র তৈরি করে। এই আংশিক
ঘুরন্ত চুম্বকক্ষেত্রের জন্যই শেডেড পােল পাইপ টেবিল ফ্যানের মােটর স্টার্ট নেয় এবং নিজে নিজে আনশেডেড অংশ হতে
শেডেড অংশের দিকে ঘূর্ণনগতি প্রাপ্ত হয়। এ ধরনের টেবিল ফ্যানের স্টার্টিং টর্ক খুবই কম, ওভারলােড ক্যাপাসিটি এবং
কর্মদক্ষতাও কম। তবে সুবিধা এই যে, এ ধরনের মােটর নিঃশব্দে এক নাগাড়ে দীর্ঘক্ষণ চলতে সক্ষম এবং এর রিপেয়ার
মেইনটেন্যান্স খুবই সহজ। 
টেবিল ফ্যান ও পেডেস্টাল ফ্যানের বিভিন্ন অংশের তালিকা: টেবিল ফ্যান ও পেডেস্টাল ফ্যানের কয়েলের সার্কিট
ডায়াগ্রাম মূলত একই। এই ফ্যানগুলি এসি সিঙ্গেল ফেজ ক্যাপাসিটর স্টাট অ্যান্ড রান টাইপ ইন্ডাকশন মােটর। এগুলি
সাধারণত চার পোলের হয়ে থাকে। স্পিড কন্ট্রোল কয়েল হিসাবে একটি এক্সটা কয়েল। স্টেটর সুটে বসিয়ে গতি নিয়ন্ত্রণ
করা হয় অথবা আলাদা রেগুলেটর কয়েল লাগিয়ে এটি করা হয়। স্টেটরে সুট সংখ্যা সাধারণত যােলটি থাকে এবং কয়েল
থাকে আট (৪)টি–রানিং কয়েল চার (4)টি এবং স্টার্টিং কয়েল চার (4)টি। স্টাটিং কয়েলের প্যাচ সংখ্যা রানিং কয়েলের চেয়ে
কিছুটা বেশি থাকে আবার সমানও থাকতে পারে। টার্ন সংখ্যা 700 থেকে 100 এর মধ্যে সাধারণত সীমাবদ্ধ থাকে এবং তারের
গেজ নাম্বার 35 থেকে 36 এর মধ্যে থাকে। স্পিড কন্ট্রোল কয়েল এক্সটা কয়েল হিসাবে রানিং ওয়াইন্ডিং । এর সুটে বসানাে
হয় এবং এর সংখ্যা লাে, মিডিয়াম, হাই হিসাবে 2টি বা 3টি থাকে। কিছু কিছু টেবিল ফ্যানের স্টেটরে আট টি সুট থাকে।
সেক্ষেত্রে 2টি রানিং ও 2টি স্টার্টিং কয়েল হিসাবে মােট চার (4)টি কয়েল থাকে। ক্যাপাসিটর টাইপ ও শেডেড পােল ।
টাইপ- উভয় ধরনের টেবিল ফ্যান প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। টেবিল ফ্যান এবং পেডেস্টাল ফ্যানের অসিলেটর
মেকানিজম একই ধরনের। অসিলেটিং মেকানিজমের সাহায্যে কল ওয়াইজ ও অ্যান্টি ক্লকওয়াইজ রোটেশন দিয়ে বাতাস
ছড়াতে পারে। নিতে অসিলেটিং মেকানিজমের কার্য বর্ণনা করা হলঃ
আসলেটং মেকানিজম অসিলেটিং মেকানিজমযুক্ত ফ্যানের পিছনে রােটর শ্যাফটের দিকে অসিলেটিং গিয়ার বক্স থাকে। 
বক্সে যা যা থাকে তা হল: (১) পিনিয়ন শ্যাক্ট, (২) ক্লাচ প্রিং, (৩) স্টিল বল দুটি, (৪) ক্লাচ হাউজিং ও ফাইবার গিয়ার
অ্যাসেমরি, (৫) স্পার গিয়ার শ্যাফট এবং স্পার গিয়ার ইত্যাদি। গিয়ার বক্সের ভিতরে উল্লম্বভাবে পিনিয়ন শ্যাফট
অ্যাসেম্বলি অবস্থান করে। পিনিয়ন শ্যাফটের উপরের দিকে একটি প্লাস্টিক নব। লাগানাে থাকে যা মূল মােটরের
উপরের দিকে অবস্থান করে। হাতের সাহায্যে এই নবটিকে উঠানাে বা নামানাে যায়। সেই সাথে পিনিয়ন শ্যাফটের
একটি ক্লাচ প্রিং-এর মাধ্যমে উঠানামা করতে পারে। পিনিয়ন শ্যাফটের শেষের দিকে ফাইবার গিয়ার অ্যাসেমব্লি ও
সর্বশেষ শ্যাফটযুক্ত স্পার গিয়ার থাকে। ফ্যানের স্কুইরেল কেজ রোটর শ্যাফটের পিছনের দিকটি খাজকাটা থাকে এবং
এই অংশই গিয়ার বক্সের ভিতরে প্রবেশ করে স্পার গিয়ারের নিকট অবস্থান করে। যখন প্লাস্টিক নবটি প্রেস করে বসিয়ে
দেয়া হলাে, তখন। রােটর শ্যাফটের সাথে স্পার গিয়ার লেগে যায় এবং যেহেতু রােটর দ্রুতবেগে ঘুরতে থাকে, সে জন্য
স্পার গিয়ারটিও ঘুরতে থাকে। গিয়ার/পিনিয়ন এর সাইজ ছোট-বড় করা থাকে। ফলে রােটর যে বেগে ঘােরে, স্পার গিয়ার
তার চেয়ে অনেক কম গতিতে ঘােরে। এই স্পার গিয়ার মােটরের বডির সঙ্গে সংযােজিত আরেকটি বড় খাঁজকাটা গিয়ারের
সঙ্গে লেগে যায়। এতে মােটরের গতিবেগ আরও নিয়ন্ত্রিত হয়। বড় গিয়ারের সাথে একটি লিভার বা ক্লাচ প্লেট আর লিভারের
অপর প্রান্ত মােটরের স্থির বডির সাথে লাগানাে থাকে। এরূপ ব্যবস্থার ফলে মােটর ধীরে ধীরে বিরতিহীনভাবে একবার
ক্লকওয়াইজ ও আরেকবার অ্যান্টিক্লকওয়াইজ রােটেশন প্রদান করে। অসিলেটিং কার্যক্রম, প্রয়োজন না হলে অসিলেটিং
নব টেনে উপরের দিকে উঠিয়ে ফেললে অসিলেটিং ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। 

You may also like...

Leave a Reply